তাজা বার্তা | logo

৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‘আক্ষেপ থাকলেও ক্রিকেটকে দিতে চাই আরও কিছু’

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১২, ২০২০, ১৪:৫৯

‘আক্ষেপ থাকলেও ক্রিকেটকে দিতে চাই আরও কিছু’

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩২ ম্যাচে ৩৯৩ উইকেট, ১৫ বার নিয়েছেন ৫ উইকেট। যা একজন পেসার হিসেবে দুটিই দেশের ক্রিকেটের রেকর্ড। তার চেয়ে বেশি ম্যাচও (১৩২) খেলেনি বাংলাদেশের কোনো পেসার।

লিস্ট ‘এ’, প্রথম শ্রেণি, দুটিতেই করেছেন হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশ ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফর্মার মোহাম্মদ শরীফ আজ হুট করেই বিদায় বললেন ক্রিকেটকে।

”অবসর নেয়ার স্পেসিফিক কোনও কারণ নেই। নিজের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আক্ষেপ থেকেই এই চিন্তাটা আসা।

নারায়ণগঞ্জের এই পেসার আরটিভি অনলাইনকে জানালেন, আচমকা নয় বরং সব ভেবেই নিয়েছেন সিদ্ধান্ত। তবে এর মাঝে ছিল আক্ষেপও।‘সবাই বলছিল ফিট আছি, খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো দুই বছর পরে হলেও তো ছাড়তে হবে, এক বছর পরে হলেও ছাড়তে হবে। তাই এখন ছাড়াই ভালো মনে হয়েছে। সামনে যত দিন যাবে খারাপ দিন আসবে, কষ্টের দিন আসবে।’শরীফ ক্রিকেট ছেড়েছেন ঠিকই তবে আক্ষেপকে সঙ্গী করে। আক্ষেপ একটা নয় দুটো। প্রথমত ৪০০ উইকেট না পাবার, আরেকটা ৪০০০ রানের মাইলফলক ছুঁতে না পারার।‘অবশ্যই, এটা তো অনেক বড় আক্ষেপ আমার। শুধু এটা না, আমার একটা গোলও ছিল আমি ৪ হাজার রান করব। কিন্তু দেখলাম যে এর জন্য আরও অনেক ম্যাচ দরকার। আর ৭ উইকেটের যেটা বললাম, আমার ভাগ্যটা ফেভার করতে হবে। আমি এক ম্যাচ খেলেও ৭ উইকেট পেতে পারি আবার ৭ ম্যাচ খেলেও নাও পেতে পারি।’ব্যাট হাতেও বরাবরই লড়াকু ছিলেন শরীফ। ৩ হাজারের বেশি রান করেছেন। আছে সেঞ্চুরি আর ফিফটিও। স্বপ্ন ছিল ৪ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার। সেটা না হওয়াতেই তার যত আক্ষেপ।‘আমার একটা গোলও ছিল আমি ৪ হাজার রান করব। কিন্তু দেখলাম যে এর জন্য আরও অনেক ম্যাচ দরকার। । প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট না পাওয়ার মতো এটাও একটা বড় আক্ষেপ।’এই দুটো আক্ষেপ থাকলেও শরীফ সান্ত্বনা খুঁজছেন। ধরে নিয়েছেন, সবাই তো শতভাগ পায় না ক্যারিয়ারে।’সত্যি বলতে, সবাই তো শতভাগ স্যাটিসফ্যাকশন নিয়ে বিদায় নিতে পারে না। আমার বেলায়ও তাই হলো। তবে আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিয়া যে একজন পেসার হয়েও লম্বা সময় খেলা চালিয়ে যেতে পেরেছি।’তবে এই পেসারের ইচ্ছা ছিল মাঠ থেকে বিদায় নেয়া। টানা কুড়ি বছর দাপিয়ে বেড়ানো এই পেসারের মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার ইচ্ছাটা ফিকে হয়ে গেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায়।‘আমার প্রথম প্ল্যান ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিদায় নিবো। এরপর প্রিমিয়ার লিগ, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি এগুলো ছাড়বো। কিন্তু ভেবে দেখলাম এ’বছর আর খেলা কন্টিনিউ হবে না। আগামী বছর গেলে আরেকটা বছর চলে যাবে। তার চেয়ে বরং অন্যভাবে যদি বিসিবি চায় সেটা কোচিংয়ে হোক কিংবা সিলেকশনে তবে সেখানে কাজ করার ইচ্ছা আছে।’বাইশ গজে নিজের লড়াই থামিয়ে দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান লম্বা ক্যারিয়ারের সাফল্যগুলো। তাই ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চান, দেশের ক্রিকেটকে দিতে চান আরও কিছু।‘বিসিবি চাইলে কোথাও ইনক্লুড করতে পারে আমাকে। সেটা সিলেকশন প্যানেল হোক বা কোচিং লাইনে হোক, যেখানেই চায় আমি সাড়া দিব।’বিদায় বেলায় শরীফ আরও বলছেন, দেশের ক্রিকেটের উন্নতি করতে হলে গঠন করতে হবে শক্ত অবকাঠামো।‘দেশের ক্রিকেট নিয়ে আক্ষেপের কথা বলতে গেলে অবকাঠামোগুলো আরও স্ট্রং হওয়া দরকার। এগুলা এখন হচ্ছে না, হয়ত বা ভবিষ্যতে হবে। হয়তোবা দুই এক এক বছরের মধ্যে এসব দেখতে পারব না। তবে দেশের ক্রিকেটের উন্নতি করতে চাইলে স্ট্রং অবকাঠামো দরকার।’


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT