তাজা বার্তা | logo

১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মুক্ত গণমাধ্যম রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ মে ০৩, ২০২০, ১৮:২৯

মুক্ত গণমাধ্যম রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় : তথ্যমন্ত্রী

‘রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া এবং বহুমাত্রিক সমাজ বিনির্মাণে মুক্ত, স্বাধীন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ রোববার ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে অনলাইনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন একইসঙ্গে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি,মুক্ত,স্বাধীন ও একইসাথে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া ও একটি বহুমাত্রিক সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সব সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকরা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তারা,এই বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ইতোমধ্যেই আমাদের একজন সাংবাদিক বন্ধু হুমায়ুন কবীর খোকন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তিকামনা করছি। একইসাথে অনেক সাংবাদিক বন্ধু যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তারা যাতে দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন,মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সেই প্রার্থনা করছি।’

তথ্যমন্ত্রী এ সময় পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ এবং মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। ২০০৯ সালে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ৪৪৫টি, ২০২০ সালে এখন দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১২৯৪টি। ২০০৯ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ২০৮টি, এখন সেটি ১২০৮টি।’

ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের খতিয়ান দিয়ে ড. হাছান মাহমুদ জানান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ২০০৯ সালে ছিল দুটি,এখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চারটি। বেসরকারি টেলিভিশন ২০০৯ সালের শুরুতে ১০টি আর এখন ৪৫টি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এফএম বেতার ২০০৯ সালে একটিও ছিল না,এখন ২৪টি এফএম বেতার কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশির ভাগ সম্প্রচারে আছে। কমিউনিটি রেডিও ২০০৯ সালে একটিও ছিল না, এখন ৩২টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দেওয়া আছে, তারমধ্যে অনেকগুলো সম্প্রচারে আছে।

‘এই পরিসংখ্যানেই বলে যে,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকার গণমাধ্যমের অবাধ বিস্তৃতি এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সেই কারণেই গত ১১ বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।

রিজভীর বক্তব্য উদভ্রান্তের প্রলাপ -তথ্যমন্ত্রী

এ সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি রিজভী আহমেদের বক্তব্য গতকাল দেখেছি। রিজভী আহমেদ অসুস্থ ছিলেন,তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন,এজন্য আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করছি যে,তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছেন।’

‘তবে তিনি যেভাবে বক্তব্য রাখছেন,এগুলো আমার কাছে উদভ্রান্তের প্রলাপের মতো মনে হয়’ উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই মহাদুর্যোগের সময় আসলে রিজভী আহমেদসহ বিএনপি নেতারা ফটোসেশন এবং বিষোদগার এবং মিথ্যাচারের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত।’

‘বিএনপি নেতারা যাই বলুক না কেন,আজকে এই বিশ্ব করোনো পরিস্থিতিতে এই মহাদুর্যোগের সময়,এই মহামারির সময় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করছেন, সেটি আজকে বিশ্বসম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, ফোর্বস ম্যাগাজিন এমনকি ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন তাঁর এই নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে’, বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা প্রশংসা করার সংস্কৃতিটা লালন করে না,এটা অত্যন্ত দুঃখজনক,আর রিজভীর বক্তব্য উদভ্রান্তের প্রলাপ।’


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT