তাজা বার্তা | logo

২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় ফলমূল-শাকসবজি জীবাণুমুক্ত করছেন তো?

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১২, ২০২০, ১৫:১৪

করোনায় ফলমূল-শাকসবজি জীবাণুমুক্ত করছেন তো?

প্রাণঘাতী কোভিড-19 করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। হু হু করেই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এমন অবস্থায় এই সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এই ভাইরাসকে প্রতিরোধে সবার জন্য নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, হাঁচি কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করা, অনেকক্ষণ সময় নিয়ে কাঁচা শাকসবজি ও ফল-মূল ভালো করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।দেখে নিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (FDA), ফুড স্টান্ডার্ডস ফর অস্ট্রেলিয়া এন্ড নিউজিল্যান্ড, ফুড সেইফটি অথোরিটি অব আয়ারল্যান্ড, ইউনিসেফ প্রভৃতি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কি বলে।করোনাভাইরাস কি খাবারের মাধ্যমে ছড়াতে পারে?COVID-19 ফুডবর্ন ইলনেস বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ নয়। এটি খাবারের মাধ্যমে বা ফুড প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়ালস এর মাধ্যমে ছড়িয়েছে এমন কোনো কেইস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাস খাবারের মধ্যে মাল্টিপ্লাই বা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না। এর জন্য মানুষ বা এনিম্যাল বডির প্রয়োজন পড়ে। তবে অন্যান্য ভাইরাসের মতো এটি সারফেস বা অবজেক্টে কিছুসময় বেঁচে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ল্যাবরেটরি কন্ডিশনে দেখা গেছে করোনাভাইরাস প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলে ৭২ ঘণ্টা, কপার সারফেসে ৪ ঘণ্টা, এবং কার্ডবোর্ডে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে।শাকসবজি , ফলমূল খাবার বা রান্না করার পূর্বে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া ঠিক হচ্ছে কি?ফ্রেশ সবজি বা ফল পানিতে (চলমান ট্যাপ/টিউবওয়েল) ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিৎ। এতে বাইরের ময়লার অধিকাংশই চলে যায়। কখনোই সাবান/ডিটারজেন্ট বা অন্য কোনও ডিজইনফেকট্যান্ট (স্যাভলন, ডেটল, হেক্সিসল), দিয়ে ফল বা সবজি ধোঁয়া উচিৎ নয়। এসব কেমিক্যাল খাওয়ার উপযুক্ত নয় এবং এতে খাবার খাওয়ার জন্য পুরোপুরি অনুপযুক্ত হয়ে যেতে পারে।করোনায় মাংস খাওয়া কি নিরাপদ?ধারণা করা হচ্ছে কোন প্রাণির শরীরে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে। মাংস থেকে মানুষে ছড়িয়েছে এমন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। মাংস ভালোভাবে ধুয়ে উপযুক্ত তাপমাত্রায় রান্না করে খেতে হবে। শুধু মাংস না রান্না করে খেতে হয় এমন সব খাবারের জন্য এটা প্রযোজ্য। যেহেতু এখনও এই রোগের কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি সেহেতু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাংস খাওয়া উত্তম।করোনাভাইরাস ডিজিজ কোনো ফুডবর্ন ইলনেস নয়। তবুও ফুডবর্ন ইলনেস থেকে নিরাপদ থাকতে সেইফ ফুড হ্যান্ডেলিং বিষয়ে FDA প্রদত্ত গাইডলাইন অনুসরণ করতে পারে।এটি ৪টি সহজ ধাপে বিভক্ত১) পরিস্কার করা, ২) পৃথক রাখা, ৩) রান্না করা এবং ৪) ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রাখা।পরিস্কার করা• খাবার ধরার আগে এবং পরে গরম পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে ফেলুন।• খাবার তৈরির পর কাটিং বোর্ড, হাড়িপাতিল, বটি, চাকু ইত্যাদি গরম সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।• রান্নাঘর পরিস্কার করার জন্য টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। কাপড় ব্যবহার করতে চাইলে গরম কোনও মাধ্যমে পরিষ্কার করে নিন।• তাজা শাকসবজি ও ফল চলমান পানিতে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। ভালো করে ধোয়ার সুবিধার্তে পরিস্কার ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন।পৃথক রাখা• কাঁচা মাছ, মাংস, পোল্ট্রি, ডিম ইত্যাদি বাজারের ব্যাগে, শপিং কার্টে এবং রেফ্রিজারেটরে অন্যান্য খাবার থেকে আলাদা করে রাখুন।• মাছের জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড এবং কাঁচা মাংস ও সি ফুডের জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ব্যবহার করুন।• কাঁচা মাছ বা মাংস রাখা হয়েছিলো এমন কোনও পাত্রে রান্না করা খাবার কখনোই রাখবেন না। রাখতে হলে পাত্রটি গরম সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।রান্না করা• উপযুক্ত তাপমাত্রায় খাবার রান্না করুন। এক্ষেত্রে একটি ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন। খাবারের ভেতরের তাপমাত্রা নিম্নোক্ত স্কেলে পৌঁছলে খাবারটি নিরাপদ বলে ধরে নিতে পারেন। গরু/ছাগল/ভেড়ার মাংস: ১৪৫ °ফা. (৬৩ °সে.), গ্রাউন্ড মিট: ১৬০ °ফা. (৭১ °সে.), মুরগি/পোল্ট্রি: ১৬৫ °ফা. (৭৪ °সে.), ডিম: কুসুম ও সাদা অংশ শক্ত হওয়া না পর্যন্ত, ডিমের তরকারি: ১৬০ °ফা. (৭১ °সে.), মাছ: ১৪৫ °ফা. (৬৩ °সে.), চিংড়ি: মাংস মুক্তোর মতো অস্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত।• মাইক্রোওভেনে রান্নার ক্ষেত্রে ঢাকনা ব্যবহার করুন। সুসম রান্নার জন্য নেড়ে নিন। • সস, স্যুপ বা সমজাতীয় খাবার গরম করার ক্ষেত্রে বয়েল করে নিন।ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রাখা• রান্নার পর খাবার ঠাণ্ডা করে তাৎক্ষনিকভাবে ফ্রিজে রাখুন (-১৮ °সে.)।• মাছ, মাংস, পোল্ট্রি, সি ফুড ও অন্যান্য পচঁনশীল খাবার রান্না করা বা কেনার ২ ঘণ্টার মাঝে ফ্রিজে রাখুন। বাইরের তাপমাত্রা ৩২°সে. এর বেশি হলে ১ ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রিজে রাখুন।• ঘরের তাপমাত্রায় কখনো ফ্রিজের খাবার গলাবেন না। ফ্রিজের খাবার গলানোর জন্য রেফ্রিজারেটর, ঠান্ডা পানি কিংবা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করুন। পানি/মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করলে খাবারটি তাৎক্ষনিকভাবে রান্না করে ফেলুন।• ফুড মেরিনেটের ক্ষেত্রে সবসময় রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করুন।• দ্রুত ঠাণ্ডা করার জন্য রেফ্রিজারেটরে খাবার অগভীর পাত্রে ফাঁকা ফাঁকা করে রাখুন।করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে স্বাস্থবিধি মেনে চলুন। নিজে ভালো থাকুন, অপরকে ভালো থাকতে দিন।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT