তাজা বার্তা | logo

৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনার মহামারীতে বিপর্যস্ত এশিয়ার পোশাক শিল্প

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৩, ২০২০, ১৪:৪৪

করোনার মহামারীতে বিপর্যস্ত এশিয়ার পোশাক শিল্প

করোনার মহামারীতে বিপর্যস্ত এশিয়ার বৃহত্তম রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। স্থবির হয়ে পড়েছে কারখানাগুলো। বাতিল হচ্ছে, অর্ডার সরবরাহের জন্য সময় বাড়াচ্ছে বৃহত্তম ক্রেতা দেশগুলো। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছে গার্মেন্টস কারখানাগুলো।

সাধারণ সময়ে বাংলাদেশ, ভারত আর জর্ডান থেকে ভারতের বিভিন্ন গার্মেন্টসে অনেক শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু এই মহামারীতে ব্যবসাই বন্ধ করে দিতে হয়েছে তাদের। এতে করে শুধু যে শ্রমিকদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেনের অবস্থা দিনদিন খারাপ হওয়ায় বৃহত্তম দুই ক্রেতা দেশ থেকে একের পর এক অর্ডার বাতিল হচ্ছে। অনেক ব্র্যান্ডই বেতন পরিশোধের চেষ্টা করছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার পেমেন্টের জন্য ১ থেকে ৪ মাসের সময় চাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল্যছাড় চাচ্ছে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান।

করোনাভাইরাস লক ডাউনের কারণে গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে লোকসানের মুখে। ফেব্রুয়ারিতে চীন লক ডাউন হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। পোশাক শিল্পে সর্বোচ্চ কাঁচামাল রফতানিকারক দেশ চীন।

২০১৮ সালে দেশটি ১১ হাজার ৮শ’ কোটি ডলারের টেক্সটাইল সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল রফতানি করেছে। চীন বিশ্বের কারখানা হিসেবে পরিচিত হলেও পোশাক শিল্পের দিক দিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বলছে, এশিয়ায় পোশাকখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করে ৪০ লাখ মানুষ। গেলো বছর রফতানির ৯০ হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। উৎপাদন খাতের অর্ধেক চাকরিই তৈরি পোশাক খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট। কম্বোডিয়া আর শ্রীলঙ্কার রফতানি চাকরির ৬০ শতাংশই তৈরি পোশাক শিল্পে নির্ভরশীল। এ সংকটে ৪ থেকে ৯ শতাংশ মানুষ চাকরি হারাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষতি কমিয়ে শ্রমিকদের সুরক্ষায় ঋণ মওকুফ, সুদহার কমানো, বেতন পরিশোধ, কর কাটছাঁটসহ বেশ কিছু ভর্তুকি প্রণোদনা দিয়েছে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার সরকার।

তবে শ্রম শক্তি কমা, কাঁচামালের দাম বাড়া, উৎপাদন কমার মতো সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হবে এ শিল্পকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দিনের পর দিন কম শ্রম মূল্যে উন্নতমানের পণ্য নিয়ে মুনাফা করেছে, এসময়টায় তাদের সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত। খুচরা বিক্রেতারা সহায়তা না করলে এ শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব হবে না বলেও মনে করেন তারা।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT