তাজা বার্তা | logo

২৯শে পৌষ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চীনের পাশে হলেও করোনায় কেউ মারা যাননি দেশটিতে

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১২, ২০২০, ২০:০২

চীনের পাশে হলেও করোনায় কেউ মারা যাননি দেশটিতে

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের দেশগুলো যখন নাস্তানাবুদ, ঠিক তখন পুরোপুরিই ব্যতিক্রম ভিয়েতনাম। চীনের প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখনো কেউ মারা যাননি। লক্ষাধিক টেস্ট করে রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ২৫৭ জন, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪৪ জন। মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলেই করোনা প্রতিরোধে দেশটি এখন পর্যন্ত সফল।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর ছোবলে বেসামাল চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের সব দেশগুলো। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সেখানে ব্যতিক্রম ভিয়েতনাম।

চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পরও দেশটিতে এখনো করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি কেউ। বলা যায়, করোনা প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত সফল তারা। আর এর প্রধান কারণ করোনা প্রতিরোধে ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষের নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পরার পরই, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ভিয়েতনাম সরকার। শুরু থেকেই নিজেদের উদ্ভাবিত কিট ব্যাবহার করে, করোনা শনাক্তে ব্যাপকহারে পরীক্ষা শুরু করা হয়। হাসপাতালের গন্ডি ছাড়িয়ে, পরীক্ষার জন্য বুথ স্থাপন করা হয় বিভিন্ন সড়কে।

এতসব পদক্ষেপের পরও ২৩ জানুয়ারি ভিয়েতনামে চীন ফেরত এক নাগরিকের দেহে প্রথম করোনা শনাক্ত করা হয়। এরপর বিলম্ব না করে, দ্রুত বন্ধ করা হয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিয়ন্ত্রণ করা হয় গণপরিবহন চলাচল। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় পর্যটকদের ওপর।

এর মধ্যেই ২ মার্চ, এক প্রভাবশালী নারী বিমানবন্দরের কর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরীক্ষা ছাড়াই দেশে প্রবেশ করেন। কিন্তু পরক্ষণেই পুলিশ ওই নারীকে আটক করে। তার দেহে শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। পরে ওই নারী যে বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন, তার প্রত্যেক যাত্রীকে রাখা হয় কোয়ারেন্টাইনে। এমনকি যেসব রাস্তা তিনি ব্যবহার করেছিলেন, তাও জীবাণুমুক্ত করা হয়।

এই ঘটনার পর দেশটিতে কিছুটা বৃদ্ধি পায় করোনা রোগীর সংখ্যা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউন করা হয় পুরো দেশ, যা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে দেশটির আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, বিমানবন্দরে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধিক হারে পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্তের দ্রুত আলাদা করার ফলেই করোনার মহামারী ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে তারা।

পর্যটকদের ওপর বিধি-নিষেধ, দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনের কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে ১০ কোটি মানুষের দেশ ভিয়েতনাম। কিন্তু এর বিনিময়ে দেশটি ঠেকাতে পেরেছে মৃত্যুর মিছিল।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT