তাজা বার্তা | logo

৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

এবার করোনায় প্লাজমা থেরাপি শুরু করবে ঢাকা মেডিকেল

প্রকাশিতঃ মে ১৫, ২০২০, ১৯:১৬

এবার করোনায় প্লাজমা থেরাপি শুরু করবে ঢাকা মেডিকেল

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এবার প্লাজমা থেরাপির দিকে হাঁটছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ।

আজ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান এনটিভি অনলাইনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, প্লাজমা থেরাপি এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা। আমি গতকাল রাতে আমেরিকার একজন হেমাটোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তিনি একটি হাসপাতালের দায়িত্বে আছেন। ওই হাসপাতালে মোট ২৩ জনকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এদের ভেতরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে ২১ জনের। বাকি দুজনের অবস্থা আগের মতো আছে। সেজন্য আমরাও বৃহৎ আকারে প্লাজমা থেরাপির কথা চিন্তা করছি।’

তবে বাংলাদেশে প্লাজমা থেরাপির ঘটনা কিন্তু এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ৪ এপ্রিল প্রথম প্লাজমা থেরাপির কার্যক্রম শুরু করেন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল। হাসপাতালের হেমাটোলজি অ্যান্ড স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের কোঅর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ এনটিভি অনলাইনের কাছে দাবি করেছেন, তিনিই দেশে প্রথম প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করেছেন। এবং থেরাপি প্রয়োগ করা সেই রোগী এখন অনেকটাই সুস্থ আছে বলে দাবি তাঁর।

ডা. এম এ খান বলে, ‘এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রথম বাংলাদেশে প্লাজমা থেরাপি শুরু করে। তাঁরা একজন ৬৫ বছর বয়সী করোনা রোগীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করেন। তিনি এখন অনেকটা সুস্থ। তাঁকে আইসিইউতে থেকে বেডে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এটা ভালো ফল বয়ে আনবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখছি। শরীরের এন্টিবডি চেক করার জন্য আমরা চারটি কিট কিনেছি ফ্রান্স থেকে। আগামী রোববারের ভেতরে কিট আমরা পেয়ে যাব। চারটি কিটের দাম পড়েছে ছয় লাখ টাকা। প্রতিটা কিটে ৯৬ জনের এন্টিবডি চেক করা যাবে। কিট হাতে পেলেই আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করবো।’

তবে ডা. এম এ খান বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ডোনার পাওয়া। সেজন্য প্লাজমা থেরাপি করা বেশ ঝামেলাযুক্ত। আবার এই পদ্ধতিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীকে বাঁচানো সহজ। সেজন্য গণমাধ্যম ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে মানুষকে সচেতন করার। যাতে করোনাযুদ্ধে সুস্থ হয়ে উঠা রোগী আরেকজন রোগীর জীবন বাঁচাতে প্লাজমা ডোনেট করতে চান।’

গত ৪ এপিল একজন করোনাজয়ী রোগীর শরীর থেকে ৪০০ এমএল প্লাজমা গ্রহণ করেন এভারকেয়ার হাসপাতালের ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ। তিনি বলেছিলেন, ‘ওই ৪০০ এমএল প্লাজমা আইসিইউতে থাকা ৬৫ বছর বয়সী রোগীর শরীরের ২০০ এমএল করে দুই দিনে প্রয়োগ করা হয়েছে। এরপর থেকে ওই রোগী সুস্থ হতে শুরু করেছেন। তাঁর শরীরের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছিলেন না। এই থেরাপি দেওয়ার পর তিনি আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন। এখন তাঁকে আইসিইউ থেকে কেবিনে রাখা হয়েছে। তবে কত এমএল প্লাজমা প্রয়োজন হবে তা কিন্তু ব্যক্তি বিশেষের উপর নির্ভর করবে।’

প্লাজমা থেরাপি কী?

এই প্লাজমার নাম হলো convalescent প্লাজমা (ক্রমে স্বাস্থ্যপুনরুদ্ধারকারী)। এটা সেরে উঠা করোনা রোগীর শরীরে পাওয়া যায়। এই করোনাজয়ী রোগী রক্তদানের মতোই প্লাজমাদান করতে পারেন। একজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরে কিছু এন্টিবডি (প্রতিরোধ ব্যবস্থা) তৈরি হয়। একটি সময় যখন রোগী করোনামুক্ত হয় তখন তাঁর শরীরের ওই এন্টিবডি থেকে যায়। রক্তের সাদা অংশ, যাকে প্লাজমা বলা হয়। প্লাজমার মধ্যেই এই এন্টিবডি থাকে। এই প্লাজমা একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। এই প্রক্রিয়াটা অনেকটা ব্লাড ট্রান্সফিউশনের মতো।

করোনার চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি একটি সম্ভাব্য ভালো থেরাপি। করোনা আক্রান্ত রোগী, যাদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায়, যেমন- স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে না পারা, অতিরিক্ত দূর্বলতা অনুভব করা এবং রক্তের প্রোটিন উপাদান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এসব উপসর্গ যাদের শরীরে থাকে তাদের অতিদ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। আইসিইউ সাপোর্ট অন্যতম। এই জাতীয় রোগীদের দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য। প্লাজমা থেরাপি উন্নত বিশ্বের ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর সাফল্য আশাজনক।


© তাজা বার্তা ২০২০

Developed by XOFT IT