তাজা বার্তা | logo

২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অবুঝ সন্তানকে রেখে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক দম্পতি

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৪, ২০২০, ১৯:৫৩

অবুঝ সন্তানকে রেখে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক দম্পতি

চারদিকে এখন করোনাভাইরাস আতঙ্ক। দেশে বেড়েই চলছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন মৃত্যুর তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় কাটছে সবার জীবন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের। করোনা আতঙ্কে দেশ-বিদেশের অনেক চিকিৎসক নিজের জীবনের ভয়ে তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ঠিক এমন কঠিন সময়ে কোলের সন্তানকে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন পাবনার এক চিকিৎসক দম্পতি।

এই দম্পতি হলেন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাকারিয়া খান মানিক এবং তাঁর সহধর্মিণী আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বি এম মারজিয়া। তাদের বাড়ি জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে। তাদের রয়েছে আট মাস বয়সের এক কন্যাসন্তান। তার নাম জুয়াইরিয়া।

চিকিৎসক দম্পতি জানান, প্রতিদিন সকাল হলেই আদরের একমাত্র সন্তানটিকে বাসায় রেখে কর্মস্থলে চলে যেতে হয় তাদের। এ সময় শিশুটির দেখাশোনা করেন তাদের বাড়ির গৃহকর্মী আকলিমা খাতুন।

চিকিৎসক বি এম মারজিয়া বলেন, ‘মেয়ে জুয়াইরিয়া এখন অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছে। মায়ের অভাব তাকে দারুণ পীড়া দেয়। চার দেওয়ালের মাঝখানে কচি চোখে সে বারবার মাকে খুঁজতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে একসময় সে আকলিমার কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। তারপরও নিজেদের দায়িত্ব থেকে আমরা সরে আসিনি।’

মারজিয়া আরো বলেন, ‘সন্তান নিয়ে ভয় তো লাগেই। তবে যতটা সম্ভব সাবধানতা অবলম্বন করে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। দেশের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের বড় কর্তব্য।’ তিনি বলেন, ‘শুধু চিকিৎসক নন, এখন সবার উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’

এ ব্যাপারে ডা. মো. জাকারিয়া খান মানিক বলেন, ‘অসুস্থ মানুষের সেবা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমার শিশুসন্তানটির প্রতি আমার মমত্ববোধ, দায়িত্ব-কর্তব্য যেমন রয়েছে তেমনি সেবা নিতে আসা মানুষগুলোর দায়িত্বও আমি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারি না।’

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, ‘চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। এখানে নিজের চিন্তা করার আগে রোগীর চিন্তা করতে হয়। তা ছাড়া পাবনার চিকিৎসকরা আগে থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে।’


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT