তাজা বার্তা | logo

৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বোরো ধানের ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক : কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ মে ১৪, ২০২০, ১৯:০৬

বোরো ধানের ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, সারা দেশে এ বছর ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে হাওরের শতভাগ এবং সারা দেশের শতকরা ৪৮ ভাগ ধান কর্তন শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষক সফলভাবে ধান ঘরে তোলার পাশাপাশি ধান বিক্রিতে ভালো দাম পাচ্ছেন।

মন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বোরো ধানের দাম এবং ধান কাটার অগ্রগতি বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, অঞ্চলভেদে ধানের বাজারদরের কমবেশি রয়েছে। তা ছাড়া ভেজা ও শুকনা ধান এবং মোটা-চিকন ধানের দামেও পার্থক্য রয়েছে।

ব্রিফিংকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রৌফ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগের ১৪টি অঞ্চল ও জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের পাঠানো তথ্যানুসারে সারা দেশের বোরো ধানের দাম এবং ধান কাটার অগ্রগতি তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এবার ধানের যা দাম আছে, এটি মোটামুটি যুক্তিসংগত। ধান-চালের দাম বাড়লে চাষি ও কৃষক খুশি হয়, কিন্তু সীমিত আয়ের মানুষেরা কষ্ট করে। তাঁরা তাঁদের স্বল্প আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে পারেন না। সে জন্য এ উভয় সংকট এড়াতে আমরা চাই একটা ব্যালান্স বা মাঝামাঝি অবস্থা, যাতে ধান-চাল বিক্রি করে চাষি ও কৃষকেরা খুশি হয়, অন্যদিকে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’

মন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলের সিলেট জেলায় বর্তমানে ভেজা ধান ৭০০-৭৫০ টাকা, শুকনা ধান ৮০০-৮৫০ টাকা, মৌলভীবাজার জেলায় ভেজা ধান ৬৫০-৭৫০ টাকা, শুকনা ধান ৭৫০-৮০০ টাকা, হবিগঞ্জ জেলায় ভেজা ধান ৬৫০-৭০০ টাকা, শুকনা ধান ৭৫০-৮০০ টাকা, সুনামগঞ্জ জেলায় ভেজা ধান ৬৫০-৭৫০ টাকা, শুকনা ধান ৭৫০-৮০০ টাকা এবং নেত্রকোনা জেলায় ভেজা মোটা ধান ৬৫০-৬৮০ টাকা ও চিকন ধান ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে ৭৭ ভাগ ধান কর্তন শেষ হয়েছে। কুমিল্লা জেলায় মোটা ধান ৮০০-৮৫০ টাকা, চিকন ধান ৯০০ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ভেজা ধান ৬০০-৭০০ টাকা, শুকনা ধান ৮০০ টাকা এবং চাঁদপুর জেলায় মোটা ধান ৮০০-৮৫০ টাকা ও চিকন ধান ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলে শতকরা ৭৩ ভাগ ধান কর্তন শেষ হয়েছে। খুলনা জেলায় মোটা ধান ৭৬০-৭৭০ টাকা, চিকন ধান ৮৮০-৯০০ টাকা, বাগেরহাট জেলায় মোটা ধান ৭০০-৭৫০ টাকা, চিকন ধান ৮৫০-৯০০ টাকা এবং সাতক্ষীরা জেলায় মোটা ধান ৮০০-৮২০ টাকা ও চিকন ধান ৯০০-৯২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলেও কৃষকেরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শেরপুর জেলায় মোটা ধান ৬৫০-৭০০ টাকা, চিকন ধান ৭০০-৭৫০ টাকা, ময়মনসিংহ জেলায় মোটা ধান ৭৫০-৮০০ টাকা, চিকন ধান ৮৫০- ৯০০ টাকা এবং জামালপুর জেলায় মোটা ধান ৬৫০-৭৫০ টাকা ও চিকন ধান ৮৫০- ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

যশোর অঞ্চলে শতকরা ৬২ ভাগ ধান কর্তন করা হয়েছে। যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলায় মোটা ধান ৮৫০-৯০০ টাকা, চিকন ধান ৯০০-১০৫০ টাকা এবং কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলায় মোটা ধান ৬৫০-৭৫০ টাকা ও চিকন ধান ৮৫০- ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল অঞ্চলের পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনা জেলায় ৮২০-৮৫০ টাকা এবং দিনাজপুর জেলায় ভেজা ধান ৬৭৫-৭০০ টাকা ও শুকনা ধান ৭৭৫- ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলায় ভেজা ধান ৮০০-৮৫০ টাকা, নওগাঁ জেলায় মোটা ধান ৬০০-৬৫০ টাকা এবং চিকন ধান ৮৫০-৯০০ টাকা, রংপুর জেলায় ভেজা ধান ৬৮০-৭০০ টাকা এবং শুকনা ধান ৮১০-৮২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং করোনা সময়কালে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ লাখ টন ধান, ১.৫ লাখ টন আতপ চাল, ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, এবং ৭৫ হাজার টন গমসহ ২২ লাখ ২৫ হাজার টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার।। এ কার্যক্রমকে সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ধান বিক্রয়কারী কৃষকের তালিকা তৈরি করে তা খাদ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।। কৃষকের ধান বিক্রয়ে যাতে সুবিধা হয়, এ জন্য ইউনিয়নে পর্যায়ে দুই হাজার ৬৭৩টি আর্দ্রতামাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।


© তাজা বার্তা ২০২০

Developed by XOFT IT