তাজা বার্তা | logo

২৭শে পৌষ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোক্তা ও এসএমই ঋণ বাড়াবে এবি ব্যাংক

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১২, ২০২০, ১৪:৪৪

ভোক্তা ও এসএমই ঋণ বাড়াবে এবি ব্যাংক

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করে আরব বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির পর ব্যাংকটির নাম বদলে হয়েছে এবি ব্যাংক। যদিও দেশের অনেক জ্যেষ্ঠ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেনের কাছে এখনো ব্যাংকটি আরব বাংলাদেশ ব্যাংক নামেই সমধিক পরিচিত।

দেশের বেসরকারি খাতের প্রথম ব্যাংক হওয়ায় নতুন নতুন অনেক সেবা চালু হয় এ ব্যাংকের হাত ধরে। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ রোববার। যদিও করোনা সমস্যার কারণে খুব বেশি আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। তারপরও এদিনে সব শ্রেণির গ্রাহককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে এবি ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী বা করপোরেট ঋণ থেকে সরে এসে এখন ভোক্তা ও এসএমই ঋণে মনোযোগ দিচ্ছে ব্যাংকটি। তারই অংশ হিসেবে চলতি বছর এক লাখ ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট ঋণ দিয়ে সারা দেশে গ্রাহক বাড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি।

জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আফজাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৯ সালে আমরা খেলাপি ঋণের পেছনে ছুটে তা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। এখন করপোরেট ঋণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ছোট ছোট ঋণে বেশি মনোযোগ দিতে চাই। কারণ, ছোট ঋণে ঝুঁকি কম।’

ব্যাংকটির এমডি তারিক আফজাল আরও বলেন, ‘ব্যাংকে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে ব্যাংকটিকে আবারও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। গত বছর আমরা ভালো মুনাফা করেছি। তাই আশা করছি, এ বছর শেয়ারবাজারে আমরা “জেড” শ্রেণি থেকে বের হয়ে আসতে পারব। আর্থিক বিভিন্ন সূচকের যে উন্নতি হয়েছে, তা টেকসই করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এ বছর আরও ভালো করতে পারব।’

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠার বছরেই, অর্থাৎ ১৯৮২ সালে প্রথম শাখা খোলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে। ১৯৯৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো এটিএম বুথ চালু করে, রাজধানীর গুলশান ক্লাবে। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ।

২০০৯ সালে ব্যাংকটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশকে দেওয়া দেশের প্রথম সিন্ডিকেট ঋণে অংশ নেয়। আবার ২০১১ সালে উত্তরায় সৌরবিদ্যুতে চালিত প্রথম এটিএম বুথ স্থাপন করে ব্যাংকটি। ২০০৯ সালে ব্যাংকটি মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে।

ব্যাংকটি শুধু দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সেবা বিস্তৃত করেছে। এমনকি দেশের বাইরের ব্যাংকে বিনিয়োগ করে সেই ব্যাংকের মালিকানার অংশীদারও হয়েছে এবি ব্যাংক। ১৯৯৫ সালে ব্যাংকটি হংকংয়ে তাদের ফাইন্যান্স হাউস চালু করে। ১৯৯৬ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে বিদেশি শাখা স্থাপন করে এবি ব্যাংক। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার আমানা ব্যাংকে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি। ২০১০ সালে মিয়ানমারে প্রতিনিধি অফিস চালু করে। বিদেশে বাংলাদেশি আর কোনো বেসরকারি ব্যাংকের এত শাখা ও প্রতিনিধি অফিস নেই।

দেশে ও দেশের বাইরে সব মিলিয়ে ১০৫টি শাখা রয়েছে এবি ব্যাংকের। রয়েছে ৩০০টির বেশি এটিএম বুথ ও ৫টি সহযোগী কোম্পানি। এর মধ্যে অফশোর ব্যাংকিং সেবার জন্য রয়েছে আলাদা ইউনিট। ব্যাংকের সব ধরনের সেবা পণ্য রয়েছে এবি ব্যাংকের। বয়স, শ্রেণি ও পেশা বিবেচনায় রয়েছে আলাদা আলাদা ব্যাংকিং পণ্য। সরাসরি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই ব্যাংকটি। বর্তমানে এবি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০।

২০১৯ সাল শেষে এবি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ১৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। আর খেলাপি ঋণ ৩৩ শতাংশ থেকে কমে নেমে এসেছে ১৪ শতাংশে।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT