তাজা বার্তা | logo

৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এবার প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ, আগামী বছর আরও কমবে: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১২, ২০২০, ১৪:৪২

এবার প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ, আগামী বছর আরও কমবে: বিশ্বব্যাংক

করোনার কারণে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। করোনা পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘায়িত হবে, এর ওপর নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি কত হবে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, এই প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

আজ রোববার বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। পরের অর্থবছরে (২০২১-২২) তা ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে পড়বে। উৎপাদন খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের চাহিদা বিশ্বব্যাপী কমে যাবে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ খাতের উৎপাদন খাতের পণ্যের চাহিদাও কমবে, যা কর্মসংস্থানে ঝুঁকি তৈরি করবে। দারিদ্র্যকে আরও গভীর করবে। নগর দারিদ্র্য বাড়বে। এ ছাড়া পল্লি এলাকায় গরিবের সংখ্যা বাড়বে। বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, দেশব্যাপী সবকিছু বন্ধ থাকায় ব্যক্তিপর্যায়ে ভোগ কমে যাবে। এমন অবস্থায় কোভিড-১৯-এর ঝুঁকি কমানো এবং আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতার ঝুঁকি কমাতে অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, করোনা মহামারি কতটা দীর্ঘায়িত হবে, এর ওপর নির্ভর করছে অর্থনীতিতে এর প্রভাব। বাংলাদেশ সরকার দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়েছে। সরকারকে করোনা প্রতিরোধের কাজে সহায়তা করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কোটি ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। করোনা নিয়ন্ত্রণে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

করোনার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই পড়বে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক, যা চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, এবার দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। এখন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নামিয়ে আনল বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে চলতি অর্থবছরে (নিজ নিজ দেশের) চারটি দেশের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যাবে। দেশগুলো হলো আফগানিস্তান (মাইনাস ৫ দশমিক ৯ থেকে মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ), মালদ্বীপ (মাইনাস ১৩ শতাংশ থেকে মাইনাস সাড়ে ৮ শতাংশ), পাকিস্তান (মাইনাস ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে মাইনাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ) ও শ্রীলঙ্কা (মাইনাস ৩ শতাংশ থেকে মাইনাস দশমিক ৫ শতাংশ)। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া নেপালে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ভুটানে ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইত শেফার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করে নিজ দেশের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা দরিদ্র মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকেন।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT