তাজা বার্তা | logo

১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ইফতার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ

প্রকাশিতঃ মে ১৫, ২০২০, ১৪:০৭

ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ইফতার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ

ইফতারের আগে খাবারের প্যাকেট নিয়ে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ছিন্নমূল, ভাসমান ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইফতারের প্যাকেট। রমজানের প্রথম দিন থেকে এভাবেই অসহায় মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণ করে চলেছেন নওগাঁ জেলা পুলিশের সদস্যরা।

জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ছিন্নমূল, ভাসমান ও নিম্ন আয়ের ৩০০ মানুষের মধ্যে ইফতারের প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। করোনার সংকটে দিশেহারা অসহায় মানুষকে সহায়তায় পুলিশের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল মান্নান মিয়ার নির্দেশে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন সহকর্মীদের নিয়ে রমজানের প্রথম দিন থেকে অসহায় মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণের কাজটি করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইফতারের কিছুক্ষণ আগে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় পুলিশের একটি ভ্যান থেকে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের কয়েকজন মানুষের মধ্যে ইফতারের প্যাকেট বিতরণ করছিলেন পুলিশের কিছু সদস্য। সেখানে কথা হয় নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়সান বিল আহসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এসপি স্যারের নির্দেশে আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। রমজানের প্রথম দিন থেকে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অলিগলি ও ফুটপাতে অবস্থান করা অসহায়, ছিন্নমূল, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ইফতারের প্যাকেট তুলি দিচ্ছি। এসপি স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজানের বাকি দিনগুলোতেও এভাবে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’

মুক্তির মোড়ে পুলিশের হাত থেকে ইফতারের প্যাকেট নিয়ে ফিরছিলেন ষাটোর্ধ্ব মরজিনা বেগম। তিনি শহরের মুক্তির মোড়ে পিঠা বিক্রি করে জীবন চালাতেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে দুই মাস ধরে তাঁর পিঠা বিক্রির দোকান বন্ধ রয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ এই নারী নিজের বয়স কত, তা বলতে পারলেন না। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ দিনই পানি আর একটু মুড়ি খ্যায়াই ইফতার করি। সারা দিন রোজা থ্যাইকা একটু ভালো খাবার পাইলে আত্মাটা শান্তি পায়।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, খেজুর, মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, জিলাপি ও বিভিন্ন ধরনের ফল কিনে সেগুলোকে প্যাকেট করার কর্মযজ্ঞ চলে নওগাঁ থানায়। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে থানার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা খাবারগুলো প্যাকেটজাত করতে হাত লাগান। আসরের নামাজের পর ইফতারের প্যাকেটগুলো একটি পুলিশভ্যানে তুলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল, ভাসমান, রিকশাওয়ালাসহ নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে সেগুলো বিতরণ করা হয়।

ওসি বলেন, ‘অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। সারা দিন পুলিশের পেশাগত কাজের পাশাপাশি ইফতার বিতরণের কাজটি করতে কোনো কষ্ট হয় না; বরং একটা তৃপ্তি পাই। অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যও আনন্দ নিয়ে এই কাজটি করছেন।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, ‘দেশে বর্তমানে একটা দুর্যোগ পরিস্থিতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুলিশের প্রশাসনের কাছে ত্রাণের কোনো ফান্ড না থাকলেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিজের পরিবারের খরচ কমিয়ে এবং বেতনের একটা অংশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মানবিক সহায়তা ফান্ডে জমা দিচ্ছেন। আমি নিজে এবার আমার বেতনের একটা বড় অংশের টাকা মানবিক ফান্ডে জমা দিয়েছি।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারি বিধিনিষেধের কারণে খাবার হোটেলগুলো বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আগের মতো ইফতারসামগ্রীর দোকানও এবার খোলা থাকছে না। এতে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের যেসব মানুষকে জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে, তারা বিপদে পড়ছেন। এই মানুষগুলোর কষ্টের কথা চিন্তা করে ইফতারের সময় যাতে তারা একটু তৃপ্তি ভরে খেতে পারেন, সেই জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT