তাজা বার্তা | logo

৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুরে চার খুনের ঘটনায় আরো ৫ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৩০, ২০২০, ১৩:৩৫

গাজীপুরে চার খুনের ঘটনায় আরো ৫ জন গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুর ‍উপজেলায় তিন সন্তানসহ ইন্দোনেশিয়ার বংশোদ্ভূত এক নারীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে খুন করার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। এ নিয়ে ওই চার খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরোয়ার বিন কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামের রিকশাচালক মো. কাজিম উদ্দিন (৫০), একই এলাকার অটোরিকশাচালক মো. বশির (২৬), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাবি গ্রামের মো. হানিফ (৩২), একই জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার কাঁঠালবাড়ী গ্রামের শ্রমিক মো. এলাহি মিয়া (৩৫) ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ফকিরপাড়া (আউয়াল নগর) গ্রামের ভাঙারি বিক্রেতা মো. হেলাল (৩০)।

এর আগে পারভেজ (১৭) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গত সোমবার আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এলাকায় মাদক সেবন, জুয়া, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

57474584

শ্রীপুরে মাসহ তিন সন্তান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরো পাঁচ আসামি।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরোয়ার বিন কাশেম জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বর্তমান বাসিন্দা প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজল। তাঁর দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁর বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা (১৬), ছোট মেয়ে হাওরিন হাওয়া (১২) ও বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল (৮) এবং ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত তাঁর স্ত্রী স্মৃতি ফাতেমার (৪৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। কাজল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন এবং সেখানে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় কাজলের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, শ্রীপুরের আবদার এলাকার প্রবাসী কাজলের স্ত্রী ও তিন সন্তানকে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। র্যাববের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ওই চার খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তমাখা কাপড়, লুণ্ঠিত ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের আংটিসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, কাজল মালয়েশিয়া থেকে হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কাজলের শ্রীপুরের বাসায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে কাজিম ও হানিফ। পরে তারা আসামি বশির, হেলাল, এলাহিসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় কাজিমের কিশোর ছেলে পারভেজ। তাদের আয়ের মাধ্যমে নেশা ও জুয়ার টাকা সংকুলান হচ্ছিল না বিধায় তারা এ অপরাধে যুক্ত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, ডাকাতির পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রবাসী কাজলের বাড়ির পেছনে তারা সবাই জড়ো হন। পরে পারভেজ ভেন্টিলেটর দিয়ে হানিফ গাছ ও পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ির ঢাকনা খুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা বাড়ির পেছনের ছোট গেট খুলে দিলে কাজিম, হেলাল, বশির, এলাহিসহ কয়েকজন বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। এর পর কাজিম এবং হেলালসহ তিনজন প্রথমে ফাতেমার ঘরে ঢোকেন এবং কাজিমের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকাগুলো দিতে বলেন। ফাতেমা এত টাকা নেই বলে জানান। পরে ফাতেমা তাঁর রুমের স্টিলের শোকেসের ওপরে রাখা ৩০ হাজার টাকা তাদের বের করে দেন। পরবর্তীতে তারা ফাতেমার স্বর্ণালংকারগুলো ছিনিয়ে নেন এবং ধর্ষণ করেন। আসামি বশির ও এলাহিসহ আরো একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে বড় মেয়ে নূরাকে ধর্ষণ করে এবং গলার চেইনসহ তার স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন। এ সময় ফাতেমার ছোট মেয়ে হাওয়ারিনকে ধর্ষণ করে আসামি বশিরসহ আরো একজন। আসামি পারভেজও হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণে অংশগ্রহণ করে।

77906475

শ্রীপুরে মাসহ তিন সন্তান হত্যার ঘটনায় জব্দ করা আলামত

গ্রেপ্তারকৃত কিশোর পারভেজ ২০১৮ সালে সাত বছরের শিশু নিলীমাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। ওই মামলায় ৯ মাস জেল খাটার পর সম্প্রতি সে জামিনে মুক্তি পায়। মাস দেড়েক আগে ওই বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে খাটের নীচে লুকিয়েছিল পারভেজ। এ সময় গৃহকর্ত্রীর হাতে ধরা পড়ে সে।

গ্রেপ্তারকৃতরা আরো জানায়, ডাকাতি ও ধর্ষণের এ ঘটনায় জড়িতদের চিনে ফেলে ফাতেমা ও তাঁর মেয়েরা। তাই ফাতেমা ও তাঁর তিন সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তবে সর্বশেষে প্রতিবন্ধী শিশু ফাদিলকে হত্যা করা নিয়ে আসামিদের ভিতর দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কিন্তু কোনো প্রকার সাক্ষী না রাখার সিদ্ধান্তে প্রতিবন্ধী শিশু ফাদিলকেও হত্যা করা হয়। লুণ্ঠনকৃত মালামাল ও টাকা কাজিম নিয়ে নেন এবং সুবিধাজনক সময়ে পরস্পরকে বণ্টন করবে বলে বাকিদের জানায়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, ময়মনসিংহের পাগলা থানাধীন লংগাইর ইউনিয়নের গোলবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রেজোয়ান হোসেন কাজল। তিনি প্রায় দেড়যুগ আগে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের জৈনা বাজার কলেজ রোডের আবদার গ্রামে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। এ বাড়িতেই তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। কাজল মিয়া বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং চাকরি করছেন। মালয়েশিয়ার আগে তিনি ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৬ বছর চাকরি করেন। সেখানে থাকাকালীন কাজল মিয়া ওই দেশের নাগরিক স্ত্রী স্মৃতি ফাতেমা আক্তারকে প্রায় ২০ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কাজল দেশে চলে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুরের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে কাজল মিয়ার স্ত্রী ও তিন সন্তানের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT