তাজা বার্তা | logo

২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং

উপকূলের আরো কাছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৯ নম্বার মহাবিপদ সংকেত

প্রকাশিতঃ মে ২০, ২০২০, ১২:২৫

উপকূলের আরো কাছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৯ নম্বার মহাবিপদ সংকেত

ওসমান আল হুমাম, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ
ইতিমধ্যে কক্সবাজারের আবহাওয়া ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে প্রবলতর হচ্ছে। সকাল নয়টা থেকে ধমকা হাওয়া ও গুড়ি বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌছে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের গতকাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে পৌছাতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এশিয়ার বৃহত্তম কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ উখিয়া টেকনাফের সকল ক্যাম্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩০ হাজারের অধিক ভলান্টিয়ার প্রস্তুত রেখেছেন।

দ্রুত ধেয়ে আসছে আম্পান। মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করছে গতিপথ। আজ সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বর্তমানে এটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উত্তর-উত্তরপূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। বুধবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪৫ কি.মি এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। আজ বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় জনিত জলােচ্ছ্বাসের সতর্কতা:
ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নােয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঝড়াে হাওয়ার সতর্কতা:জেলেদের জন্য সতর্কতা:
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরােজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভােলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাদপুর, নােয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০-১৬০ কিঃ মিঃ বেগে দমকা অথবা ঝড়াে হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


© তাজা বার্তা ২০২০

Developed by XOFT IT