তাজা বার্তা | logo

১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লকডাউনে ঠেকানো যাবে করোনার প্রাদুর্ভাব

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৩, ২০২০, ১৪:৩৩

লকডাউনে ঠেকানো যাবে করোনার প্রাদুর্ভাব

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দেশব্যাপী সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ছুটি তিন দফা বাড়িয়ে মেয়াদ নেয়া হয়েছে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

এদিকে, ছুটি শুরু হওয়ার কদিন পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ‘লকডাউন’ বা প্রবেশ এবং সেখান থেক বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর এটি স্থানীয় প্রশাসন স্ব ইচ্ছায় এ নির্দেশনা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্তত ১৯টি জেলা কার্যত লকডাউন রয়েছে। সেসব জেলা থেক বের হওয়া বা অন্য জেলা থেকে সেখানে প্রবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর আংশিক লকডাউন অবস্থায় রয়েছে ১৬টি জেলা।

কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে শুধুমাত্র প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব দিয়ে লকডাউন বা কোয়ারেন্টিন পালন নিশ্চিত করা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মোশতাক হোসেনে।

তিনি বলেন, “লকডাউন বা কোয়ারেন্টিনের মধ্যে রোগী দ্রুত শনাক্ত করে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া, তার আশেপাশের মানুষকে কোয়ারেন্টিনে নেয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়াই যথেষ্ট নয়। সেই সঙ্গে আশেপাশের কমিউনিটিকেও সংযুক্ত করতে হবে।

এদিকে মৃদু সংক্রমণ হয়েছে যাদের মধ্যে, তাদের ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে হবে স্থানীয় জনসমাজের মাধ্যমে। তা না করে প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করলে তা অনেকটা পুলিশি ব্যবস্থা হয়ে যাবে; আর সেরকম হলে জনগণ সেটাকে মন থেকে মেনে নিতে পারবে না, ফলে ঘটবে পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বলে মত তার।

মোশতাক হোসেন মনে করেন যাদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে তাদের চিকিৎসা ঘরেই করা সম্ভব, কিন্তু তা স্থানীয় জনসমাজের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।

তবে যেসব জায়গায় ক্লাস্টার পাওয়া গেছে, সেসব এলাকায় কড়াকড়িভাবে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা প্রয়োজন বলে মনে করেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ক্লাস্টারের ভেতরে ঘরে ঘরে গিয়ে রোগী শনাক্ত করার কাজেও স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ জরুরি।

প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার জনসাধারণকে সমন্বিতভাবে আক্রান্তদের শনাক্ত করা থেকে শুরু করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একদিকে কোয়ারেন্টাইন সফল করার জন্য পদক্ষেপ এবং আরেকদিকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপ নিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশকিছিু দেশ করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলে জানান মোশতাক হোসেন।

জনসমাজকে সম্পৃক্ত করে এবং কমিউনিটির নেতৃত্বকে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই পরিবর্তন করার দায়িত্ব দিলে পরস্থিতির একটা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT