তাজা বার্তা | logo

২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে খুশি কৃষক

প্রকাশিতঃ মে ০৫, ২০২০, ১৫:০৬

সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে খুশি কৃষক

গেল কয়েক বৎসরে সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো আবাদে বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার তাই স্বল্প সময়ে ধান গোলাজাত করতে পারছেন কৃষক। সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগে এবার ধান কাটায় বেড়েছে হারভেস্টার ও রিপার মেশিনের ব্যবহার।

তবে হাওর এলাকায় কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চলমান ভর্তুকি বহাল রাখার দাবি কৃষকের। হাওর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোরো মওসুমে শুরু তে তারা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করেছেন। সেচ মেশিন দিয়ে জমিতে দিয়েছেন সেচ। ধান কাটা মাড়াই করেছেন মেশিন দিয়ে।
ফলে কৃষক স্বল্প সময়ে জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন। তবে ধান মাড়াই, কাটা ও চাষের মেশিনের স্বল্পতার কারণে বেশি মূল্যে সেবা নিলেও সময় কম লাগায় তারা অনেকটা উপকৃত হচ্ছেন।

দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, এখন ধান গোলাজাত করণের কাজ কম করে হলেও ১৫ দিন এগিয়েছে। আগে গরু দিয়ে ধান মাড়াই, শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে অনেক সময় লাগতো। এখন একাজ গুলো মেশিনে করার ফলে অনেক সময় সাশ্রয় হয়েছে।
বাংলাবাজার গ্রামের লোকমান মিয়া বলেন, আগে ৬ বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে পুরো ২ দিন সময় লাগতো। এখন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায় মাড়াই দেয়া যায়। ভাটিপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন বলেন, ১২ বিঘা জমির ধান শ্রমিক দিয়ে কাটলে ২/৩দিন লাগতো। এখন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে অর্ধেক দিনে সেই ধান কাটা যায়। এতে খরচ ও সময় সাশ্রয় হয়।

খাগাউড়া গ্রামের নিখিল তালুকদার বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে হাওর এলাকার কৃষক আরও বেশি উপকৃত হবেন। প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষিপ্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ার জন্য নিবিড় ভাবে কাজ করতে হবে। জেন ছোট বড়ো মাঝারি সকল কৃষক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রণজিৎ চৌধুরী রাজন বলেন, এবছর ফসল কাটার কাজে ধান কাটার মেশিনের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় দেশের সবচেয়ে বেশি বোরো ধান উৎপাদন হয়। এবিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, হাওরের বোরো ধান কাটাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। ধান কাটার শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে ধান কাটার মেশিন তুলে দেয়া হয়। ফলে গেল বারের চেয়ে এবার হাওরের পাকা ধান কাটতে মেশিনের ব্যবহার বেশি হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাগণ বোরো ধান কাটার বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন হাওর এলাকার লাখো কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ সফর উদ্দিন বলেন, সরকার এবছর হাওরের ধান কাটার জন্য ২২২ টি রিপার ও কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে। এগুলো পুরোদমে হাওরে ধান কাটার কাজ করায় হাওরের পাকা ধান কাটা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানাযায়, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয়, উপসি, ও হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১০৫ হেক্টর ও হাওরের বাইরে আবাদ হয়েছে ৫৮ হাজার হেক্টর।
সারা জেলায় মোট ১ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রতি হেক্টও জমিতে গড়ে প্রায় ৬ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। পুরো ফসল কেটে ঘওে তুলতে পারলে ১৩ লাখ মেট্রিটন ধান বা ৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৩ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হবে। উৎপাদিত ধানের বাজার মুল্য হবে সাড়ে তিনহাজার কোটি টাকা।


© তাজা বার্তা ২০২১

Developed by XOFT IT